জেলা 

TMC: ‘এক লাখ কুড়ি হাজার টাকা না দিলে গাঁজা কেসে জেলে যাবে বাবা’, বাগদায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে! অভিযোগ অস্বীকার, তদন্তে দল

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : পুলিশ তুলে নিয়ে গেছে স্বামীকে। স্বামীর মুক্তির জন্য স্ত্রী ছুটে গেলেন এলাকার তৃণমূল নেত্রীর কাছে। স্বামীকে পুলিশের হাত থেকে মুক্ত করে দেওয়ার বিনিময়ে এক লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা ঘুষ চাইলেন ওই নেত্রী। এক লক্ষ টাকা দেওয়ার পরও স্বামীকে পুলিশের হাত থেকে মুখ মুক্ত করতে পারেনি। আরো ৩০ হাজার টাকা দাবি করেছে ওই নেত্রী বলে অভিযোগ। উল্টোদিকে এক লক্ষ টাকা দেওয়ার পরেও স্বামী আতিয়ার মন্ডলকে ডাকাতি কেস দিয়ে পুলিশ জেলে পাঠিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনা বাগদায়। আর যে নেত্রীর বিরুদ্ধে ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই নেত্রীর নাম গোপা রায়। তিনি আবার তৃণমূল পরিচালিত বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সভাপতি। তবে বিষয়টি নিয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গোপাল শেঠের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে ওই পরিবারটি।

সম্প্রতি বাগদার হরিহরপুরের বাসিন্দা আজমিরা মণ্ডল গোপাল শেঠের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, গত ১৭ এপ্রিল রাতে বাগদা থানার পুলিশ বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্বামী আতিয়ার মণ্ডলকে তুলে নিয়ে যায়। পর দিন সকালে স্থানীয় নাসির বিশ্বাস নামে এক যুবকের কাছে আজমিরা এবং তাঁর ছেলে জসিমউদ্দিন মণ্ডল যান। আজমিরার দাবি, নাসির তাঁদের বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোপা রায়ের কাছে নিয়ে যান। আজমিরার দাবি, স্বামীকে ছাড়িয়ে আনার জন্য তাঁদের থেকে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। না হলে আতিয়ারের বিরুদ্ধে ‘গাঁজা কেস’-এ মামলা রুজু করা হবে বলেও হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

আজমিরার ছেলে জসিমউদ্দিনের বক্তব্য, ‘‘আমরা গরিব মানুষ। টাকা কোথায় পাব? তবুও আমি গয়না বন্ধক রেখে নাসির এবং গোপার হাতে মোট এক লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। তা-ও পুলিশ বাবাকে ছাড়েনি। উপরন্তু মারধর করে ডাকাতির মামলা রুজু করেছে বাবার বিরুদ্ধে। আবার ওরা এখন বলছে, ‘আরও ৩০ হাজার টাকা লাগবে।’ আমি চাই, বাবা যেন বাড়ি ফিরে আসে। ওদের যে টাকা দিয়েছি তার প্রমাণ আছে আমার কাছে। হোয়াটসঅ্যাপে আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হয়েছিল তার স্ক্রিন শট আছে আমার কাছে।’’

গোপার বক্তব্য, ‘‘শুধু নাসির বিশ্বাস কেন, যদি কেউ আমার নাম করে টাকা নেয়, তা হলে তার যেন শাস্তি হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণ করতে হবে। তা তিনি যেই হন না কেন। টাকা নেওয়া হয়েছে কি না জানি না। আমি গোটা বিষয়টার কিছুই জানি না। আমি অন্ধকারে।’’

বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধছে বিজেপি। বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবদাস মণ্ডলের বক্তব্য, ‘‘দলটাই কাটমানির দল। দলটাই চোরদের দল। ওদের দলের ব্যাপার আমার কিছু বলার নেই।’’ তবে তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির বক্তব্য, ‘‘আমার কাছে একটি অভিযোগ এসেছিল। তা তদন্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিয়েছি। আমদের দল স্বচ্ছ। দোষ প্রমাণ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ